মালয়েশিয়ায় ন্যানো স্যাটেলাইট আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশি গবেষক ডক্টর তারিকুল

নিউজ ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণ প্রদর্শনী ২০২৪-এ বাংলাদেশি অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের ‘ন্যানো স্যাটেলাইট কমপ্যাক্ট সি-ব্যান্ড প্যাচ অ্যান্টেনা’ প্রকল্প প্রদর্শিত হয়েছে। যা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় ন্যানো স্যাটেলাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে সেমিনার, গবেষণা পণ্য প্রদর্শনী এবং শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক দাতো ডক্টর রোসলি বিন রাজিকানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ডক্টর ইসলাম এই প্রদর্শনীতে ইউকেএমের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির সেরা ১০টি বাণিজ্যিক পণ্য উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সি-ব্যান্ডে পরিচালিত কমপ্যাক্ট প্যাচ অ্যান্টেনা, যা কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি কর্তৃক তৈরি একটি কিউবস্যাটেলাইটে ইনস্টল করা হয়েছে। এই স্যাটেলাইটটি ২৪ মার্চ ২০২২ তারিখে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।

নতুন প্রযুক্তির এই অ্যান্টেনা ২০ এমবিপিএস ডেটা ডাউনলিংক ক্ষমতা প্রদান করে এবং মোবাইল গ্রাউন্ড মিশনে ১ এমবিপিএস পর্যন্ত স্পিড প্রদর্শন করে। এটি বিশ্বের প্রথম সি-ব্যান্ড, উচ্চ গেইন, কমপ্যাক্ট অ্যান্টেনা, যা একটি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে।

ডক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, যিনি বর্তমানে ইউকেএমের ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক এবং সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক, গত কিছু বছর ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী নেটওয়ার্কিং এবং টেলিকমিউনিকেশন ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীদের একজন।

প্রকল্পের অধীনে ৬০০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ এবং ২৫০টি কনফারেন্স আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। তার নেতৃত্বে ৩৫ জন পিএইচডি এবং ২৫ জন এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি গবেষকও রয়েছেন।

এছাড়া, ডক্টর ইসলাম একটি আধুনিক অ্যান্টেনা ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছেন, যা ৪০ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি পর্যন্ত অ্যান্টেনা ডিজাইন এবং টেস্টিংয়ের সুবিধা প্রদান করে। তার গবেষণা কাজ এবং একাডেমিক সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায় সৃষ্টি হয়েছে।

মালয়েশিয়া/এএমএম

আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *