প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা ও ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আমাদের এই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এবং ভবিষ্যতে যে কোন বিপর্যয়ে পরস্পরকে দূরে না রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করা অত্যন্ত জরুরি।

সোমবার বাংলাদেশে গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ)-এর দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক অফিস উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে স্থাপিত হয়েছে গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন (জিসিএ)-এর আঞ্চলিক কার্যালয়। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর প্রতি জিসিএ-এর আঞ্চলিক কার্যালয়টিকে উৎসর্গ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলার পাশাপাশি এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুত চাঁদার পরিমাণ বাড়াতে সকল দেশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এ সময় তিনি করোনা ভাইরাসের অভিঘাত মোকাবেলায়ও দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, খরা, আকস্মিক বড় ধরনের বন্যা, ভূমিধস ও তুষারধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। পরিস্থিতি এতোটাই শোচনীয় যে তাপমাত্রা যদি আর মাত্র ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বৃদ্ধি পায়, তবে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের ঝুঁকির কথাও ভুলে যাওয়া উচিৎ নয়।

জিসিএ-এর আঞ্চলিক কার্যালয়টি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকর অভিযোজন সমস্যা সমাধানে দক্ষিণ এশিয়ার সরকার, সিটি মেয়র, ব্যবসায়ী নেতৃত্ব, বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কাজ করবে।

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম ও ভালনারেবল গ্রুপ অব টোয়েন্টি (ভি-২০) ফাইন্যান্স মিনিস্টার্সের সভাপতি বাংলাদেশ বিশ্বেও প্রথম দেশ হিসেবে একটি জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

জিসিএ বাংলাদেশ অফিস মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় অভিযোজনের ক্ষেত্রগুলোকে শক্তিশালী করা এবং সমগ্র অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিগুলো দূর করতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশের সভাপতিত্বকালীন সময়ে এটি জলবায়ু ভিত্তিক দুইটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সিভিএফ’ ও ‘ভি-২০’-এর সচিবালয় হিসেবেও কাজ করবে। এটি ডেল্টা জোটের সচিবালয় ও সুনীল অর্থনীতি নিয়েও কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন ও নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট ও গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট্টিক ভার্কুইজেন অনলাইনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও জিসিএ বোর্ডের সদস্য একে আব্দুল মোমেন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লিনোপ টেন্ডি দরজি, মালদ্বীপের পরিবেশ মন্ত্রী হোসেন রশিদ হাসান, নেপালের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী শক্তি বাহাদুর বাসনেট, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহকারী মালিক আমিন আসলাম বক্তব্য রাখেন।

উদ্বোধন পর্ব শেষে জিসিএ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডক্টর একে আব্দুল মোমেন ও শাহাব উদ্দিন ব্রিফ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বান কি মুনও বক্তব্য রাখেন।

সারা বিশ্বের তরুণদের শিক্ষার সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে তাদের ভূমিকাকে অভিযোজন এজেন্ডায় যুক্ত করা, ক্ষমতায়ন এবং সম্প্রসারণের জন্য বৈশ্বিক প্রধান প্লাটফর্ম জিসিএ-এর ইয়ুথ অ্যাডাপ্টেশন নেটওয়ার্ক নিয়ে আলোচনার জন্য ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের অ্যাম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।