স্বেচ্ছা বেকারত্বে মিয়ানমারের সাংবাদিকরা

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ (আন্তর্জাতিক ডেস্ক): মিয়ানমারে চাকরি ছাড়ছেন সাংবাদিকরা। গণমাধ্যমে সামরিক সরকারের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন তারা।

মঙ্গলবার দেশটির সামরিক সরকারের সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিককে উপস্থিত হতে বাধ্য করার পর সাংবাদিকরা চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবর: দ্য ইরাবতি।

মিয়ানমার টাইমসের একন সিনিয়র নিউজরুম এডিটরসহ একাধিক সাংবাদিক চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তারা বলছেন, কর্তৃপক্ষ সেন্সরশিপ আরোপ শুরু করেছে। এদিকে, সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে মিয়ানমার প্রেস কাউন্সিলের ১১ সদস্যের সবাই পদত্যাগ করেছেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কিছু বিধিনিষেধ আরোপিত দিকনির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, গণমাধ্যম যাতে ‘নৈতিকভাবে’ খবর প্রকাশ করে এবং মানুষকে সহিংসতায় উসকে দেয়ার বিষয় পরিহার করে মে কারণে এ বিধিনিষেধ।

এতে উল্লেখ করা হয়, ‘সেনাবাহিনী কর্তৃক বৈধভাবে গঠিত’ স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল (এসএসি) তথা সামরিক প্রশাসনকে ভুলভাবে গণমাধ্যমগুলো ‘রিজাইম’ বলে উল্লেখ করছে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, জরুরি অবস্থার বিধানের আওতায় গঠিত এসএসি-কে যাতে ‘রিজাইম বা জান্তা’ বলে উল্লেখ করা না হয়। একই সাথে প্রতিবেদন করার সময় জনগণকে উসকে দেয়ার মতো কিছু লেখা যাবে না। গণমাধ্যমের নৈতিকতা অনুসরণ করতে হবে।

সামরিক সরকারের এসব নির্দেশনা দ্রুত অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়।

তথ্য মন্ত্রণালয় ও সামরিক প্রশাসন নির্দেশিত বিশেষ শব্দ গণমাধ্যমকে ব্যবহার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যেমন, অভ্যুত্থানের পরিবর্তে ক্ষমতা হস্তান্তর ব্যবহার করতে বলা হয়। অভ্যুত্থান নেতা না লিখে ‘লিডার অব দ্য মিলিটারি’ লিখতে বলা হয়।

১০ বছর মিয়ানমার টাইমসে কাজ করা একজন সাংবাদিক বলেন, এ অবস্থায় জনগণকে বাস্তব পরিস্থিতি ভালো করে জানানো দরকার। কিন্তু আমরা যদি শক্তিশালী শব্দের পরিবর্তে দুর্বল শব্দ ব্যবহার করি তবে আমাদের রিপোর্টিং অর্থহীন হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এমন শর্তাধীন পরিস্থিতিতে কাজ করে যেতে সাংবাদিক হিসাবে আমাদের লজ্জা হয়। প্রাইভেট মিডিয়া হিসাবে আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ইউ ওয়াই লিন অবশ্য সেন্সরশিপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেয়ার বিষয় স্বীকার করেন তিনি।

মিয়ানমার/এসকেএম/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *