হামাস-ইসরাইল সংঘাতে নিহত ২৩০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েল-হামাস সংঘাত পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে আজ। ফিলিস্তিনে ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। দুই পক্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩০০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ইসরাইলে নিহত হয়েছে ১২০০ এবং ফিলিস্তিনে ১১০০। খাদ্য, পানি ও বিদ্যুৎ না থাকায় ও ইসরাইলের নির্বিচারে হামলায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে গাজা।

ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। এ যেন মৃত্যু আর আতঙ্কের উপত্যকা। আকাশে যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দ। চারদিকে বিধ্বস্ত ভবনের ইট-পাথর।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনে আহত হয়েছেন প্রায় ছয় হাজার মানুষ।

জ্বালানির অভাবে গাজার একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেছে। আপাতত জেনারেটর দিয়ে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে সেটিও বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলের হামলায় জাতিসংঘের অন্তত ৯ কর্মী নিহত হয়েছেন। গাজায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলি সেনাদের হামলায় অধিকৃত পশ্চিম তীরে অন্তত ৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৯ জন।

এদিকে বিরোধী নেতা বেনি গানৎসকে নিয়ে যুদ্ধকালীন সরকার গঠন করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাস সেখানকার একটি হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে, কিন্তু এতে কেউ হতাহত হয়নি। তারা বলছেন, ১২০০ ইসরাইলি নিহত হয়েছেন।

শনিবার সকালে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস কয়েক বছরের মধ্যে ইসরাইলের ওপর সবচেয়ে বড় হামলা চালায়। ইসরাইলের ভূখণ্ডে পাঁচ হাজারেরও বেশি রকেট হামলা করে সংগঠনটি। এ রকেট হামলার ৫ ঘণ্টা পর জনগণের উদ্দেশে দেয়া এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের ঘোষণা দেন।

ইসরাইল-হামাসের চলমান যুদ্ধে গাজার শরণার্থী শিবিরগুলোতে সংকট বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় উদ্বাস্তুদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার সহায়তা চেয়েছে ফিলিস্তিনের শরণার্থীদের সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত জাতিসংঘভিত্তিক সংস্থা ইউনাইটেড নেশন্স রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইনি রেফিউজি ইন দ্য নেয়ার ইস্ট (ইউএনআরডব্লিউএ)।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজায় অবস্থিত শরণার্থী শিবিরগুলোতে আগে থেকেই প্রায় আড়াই লাখ শরণার্থী ছিলেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত কয়েক দিনে এই শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন আরও আড়াই লাখেরও বেশি শরণার্থী। নতুন যোগ হওয়া এই অতিরক্ত শরণার্থীদের খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সুরক্ষার জন্য আমরা এই অর্থ চাইছি।

অবিলম্বে গাজায় মানবিক ত্রাণসহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বুধবার বলেছেন, গাজায় অবশ্যই খাবার, পানি, জ্বালানিসহ জরুরি জীবনরক্ষাকারী পণ্য যেতে দিতে হবে। আমাদের এখন দ্রুত ও নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা প্রদানের সুযোগ পেতে হবে।

যুদ্ধ/এমএএম

আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *