মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশির মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে মোহাম্মদ শামীম খাঁ নামে এক বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরের দামানসারায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ১৩তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হলে সহকর্মীরা তাকে চুঙ্গাই বুলুহ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংসারের হাল ধরতে যশোর জেলার ঝিকরগাছার মধিখালী গ্রামের ফজলু খাঁর ছেলে শামীম ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে বর্তমানে বেশ ভালোই চলছিলো, সংসারেও ফিরেছিল সচ্ছলতা।

মালয়েশিয়ায় থাকা শামীমের ফুফাতো ভাই মনির হোসেন জানান, চলতি বছরেই দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল শামীমের। দুর্ঘটনায় জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়া শামীম দেশে আসবে ঠিকই তবে কফিনে।

হাসপাতালের হিমাগারে রাখা শামীমের মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।

দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) সুমন চন্দ্র দাশ বলেন, বাংলাদেশের কোনও নাগরিক মালয়েশিয়ায় মৃত্যু বরণ করলে এবং তা হাই কমিশনের নজরে আসার সাথে সাথেই হাই কমিশন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সাথে কাজ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে হাইকমিশনের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের আত্মীয়-স্বজন হারালে যে ব্যথা অনুভূত হওয়ার কথা সেই সমব্যথায় ব্যথিত হয়ে লাশ প্রেরণের কাজটি করে থাকেন। ডকুমেন্টেড অথবা আনডকুমেন্টেড যেকোনও কর্মীর মৃত্যু হলে লাশ দেশে প্রেরণের জন্য ডেথ সার্টিফিকেট, মেডিকেল রিপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও কাসকেট কোম্পানি নিয়োগের প্রয়োজন হয়। ডকুমেন্টেড কর্মীর দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলে ইন্সুরেন্স বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি সময় সাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু হাই কমিশন যেকোনো মৃত্যুর ক্ষেত্রে কোম্পানির নিকট থেকে তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, কোনও কোম্পানিই স্বাভাবিকভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে চায় না বা দিতে চাইলেও সেক্ষেত্রে গড়িমসি করে। যেকোনো পরিমাণ ক্ষতিপূরণ আদায়ে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়। লাশ প্রেরণে এদেশে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টার কারণে কোনও কোনও লাশ প্রেরণে কিছু সময় বেশি লাগে। এ ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির স্বজনরা অধৈর্য হয়ে পড়েন এবং কখনও কখনও আমাদের ভুল বোঝেন। এ সময়টাতে নিহতের পরিবারকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে সুমন চন্দ্র দাশ আরও বলেন স্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাইকমিশন আবেদন প্রাপ্তির যথাযথতা সাপেক্ষে তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিঠি ইস্যু করা হয়। প্রবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিতে হাইকমিশন সামর্থ্য অনুযায়ী বদ্ধপরিকর।

মালয়েশিয়া/এমএএম

আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *