৮ এপ্রিল ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): কথিত শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানিকে নিয়ে মানুষের ভুল ধারণার কমতি নেই। অনেকেই এখনো বিশ্বাস করেন রফিকুল ইসলাম মাদানি সত্যিই শিশু। বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।
বুধবার রাষ্ট্রবিরোধী ও উস্কানিমূলক কথাবার্তা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে নেত্রকোণা থেকে। এ বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে জানান, রফিকুল ইসলাম মাদানি বিভিন্ন সময়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তিনি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, শুধু তা-ই নয়, তিনি রাষ্ট্রবিরোধী নানা উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেন। এতে জনমনে ভীতির সঞ্চার হয়েছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে।
রফিকুল ইসলাম মাদানির এইসব ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা জনসাধারণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে রফিকুল ইসলাম মাদানিকে মতিঝিল থানা পুলিশ আটক করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে তিনি মিছিল বের করেন। তবে কয়েক ঘন্টা পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের জন্ম ১৯৯৪ সালে। বাড়ি নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায়। সে হিসেবে তার বয়স বর্তমানে ২৭ বছরের চেয়ে বেশি। কেউ কেউ জানাচ্ছেন, তার বর্তমান বয়স ২৮ বছর। রফিকুলরা আট ভাই-বোন। তারা পাঁচ ভাই ও তিন বোন। তার বাবার নাম শাহাবুদ্দীন বেঁচে নেই।
রফিকুল ইসলাম প্রথমে নেত্রকোণার মালনী এলাকায় জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মাদরাসায় হিফযুল কুরআনে পড়াশোনা করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানে পড়ে ভর্তি হন রাজধানীর যাত্রাবাড়ির একটি মাদরাসায়। এই মাদরাসায় কয়েক বছর কাটিয়ে চলে যান গাজিপুরের কোনাবাড়ির আরেক মাদরাসায়। সেখানে কিছুদিন থেকে এসে ভর্তি হন রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিতি আরেক মাদরাসায়। এই মাদরাসা থেকে মাস্টার্সের সমমানের দাওরায়ে হাদিস পাশ করেন।
শিশু, নাকি বামন?
২৭ বছরের রফিকুল ইসলামের দৈহিক বৃদ্ধি না ঘটায় তাকে শিশুর মত দেখায়। তার কণ্ঠ, শারীরিক গড়ন ও মুখাবয়ব শিশুদের মত। ফলে অনেকে তাকে শিশুবক্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এই শিশুবক্তা পরিচয়ের আড়ালেই রফিকুল ইসলাম মাদানি ধর্মের অপব্যাখ্যা দেয়াসহ রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
অনেকেই ২৭ বছর বয়েসি রফিকুল ইসলাম মাদানিকে শিশুবক্তা বলতে রাজী নন। তাদের যুক্তি, ১৮ বছর বয়সে একজন মানুষ সাবালক হয়। রফিকুল ইসলামের বয়স ২৭ বছর। তাই তাকে শিশু বলার সুযোগ নেই। বলতে হলে তাকে ‘বামনবক্তা’ বলা যায়।
মাদানি টাইটেল নিয়ে লিগ্যাল নোটিশ
তার নামের সাথে যে মাদানি টাইটেলটি আছে সেটি নিয়ে বিতর্ক আছে। এই টাইটেলের কারণে তাকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের মদিনা শাখার আমির ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এই টাইটেল ব্যবহারের কারণে লিগ্যাল নোটিশ দেন। লিগ্যাল নোটিশ দাতা ও গ্রহিতা… দুইজনের নামই রফিকুল ইসলাম।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা না করেও ‘মাদানি’ উপাধি ব্যবহার করেছেন রপিকুল ইসলাম। যা ন্যায়সঙ্গত নয়।
এ বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার পর কথিত শিশুবক্তা একটি অনুষ্ঠানে মাদানি উপাধি ব্যবহারের ব্যাখ্যা দেন। বলেন, মদিনা থেকে পড়াশোনা করলেই যে শুধু ‘মাদানি’ উপাধি ব্যবহার করা যাবে, বিষয়টি এমন নয়। ঢাকার বারিধারা এলাকার ‘জামিয়া মাদানিয়া মাদরাসা’ থেকে দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি লাভের পর তিনি নামের শেষে ‘মাদানি’ টাইটেল যোগ করেছেন।
গোপন বিয়ে
আটক হওয়ার আগের দিন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গিয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম। ফুলপুরের রহিমগঞ্জে তার যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল বিয়ের কণে দেখা। কনের নাম আসমা আকতার। আসমার বাবা-মা রফিকুলকে পছন্দ করেননি। সেখান থেকে নেত্রকোণায় ফিরে যাওয়ার পরদিনই আটক হয় রফিকুল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রফিকুল এই আসমাকেই গোপনে বিয়ে করেন ২০১৯ সালে। তবে তাদের সেই বিয়ের কোন রেজিস্ট্রি হয়নি।
রফিকুলের বড়ভাইয়ের স্ত্রী পারভীন আক্তার। এই পারভীনের চাচাতো বোন আসমা। রফিকুল ও আসমার গোপন বিয়ের অন্যতম স্বাক্ষী পারভীন আক্তার।
আসমা আকতারের বাবা-মা দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে রফিকুল ইসলাম রাতে যোগাযোগ করেন আসমার সাথে। ফেসবুক মেসেঞ্জারে আসমাকে বার্তা পাঠান। তাতে তিনি আসমাকে আশ্বাস দিয়ে লেখেন, প্রয়োজনে ১০ বছর অপেক্ষা করবেন। তবু তিনি আসমাকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করবেন।
বিধর্মীদের তৈরি প্রযুক্তি
রফিকুল ইসলাম মাদানি ইসলামিক বক্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। অন্য ধর্মের মানুষ সম্পর্কে কটুক্তি করতে ছাড়েন না। এমনকি তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি মানি, যদি সে ইসলাম মানে। প্রধানমন্ত্রী মানি, যদি সে ইসলাম মানে। এই কচুর প্রধানমন্ত্রী মানি না যদি সে ইসলামের বিরুদ্ধে যায়’।
রফিকুল ইসলাম ইসলাম মানে না এমন মানুষদের অপছন্দ করেন, তাদের বিরুদ্ধে উস্কানি দেন। কিন্তু নিজে বিধর্মীদের আবিস্কৃত ও প্রস্তুত করা গেজেট ব্যবহারে কুণ্ঠাবোধ করেন না। ব্যবহার করেন দুইটি সেলফোন। রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনগণকে উত্তেজিত করতে দ্বারস্থ হন ইউটিউবের। তার উস্কানিমূলক ভিডিও আপলোড করেন ‘নুরিয়া ইসলামিক মিডিয়া’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে।
মাদানি/রমু/আরএম















Leave a Reply