শহীদ মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের অভিযোগে কাউন্সিলর গ্রেফতার

২৩ নভেম্বর ২০২১ (নিউজ ডেস্ক, ফরিদপুর): মুক্তিযুদ্ধে  শহীদ এবং মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এম আবদুল আলীর জমি দখলের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মৃধা।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এম আবদুল আলীর জমি দখলের পর ভূমিদস্যুরা জমিতে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। ছবি: আর্ট নিউজ

মঙ্গলবার রাত পৌণে ৮টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ২২ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের কমলাপুরে ১৬২ দশমিক ২৪ শতাংশ জমির ওপর এম আবদুল আলীর বসতভিটা। যা এখন পর্যন্ত তার ৫ সন্তানের মধ্যে বন্টন হয়নি। সম্প্রতি জমি বন্টন ইস্যুতে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। বিষয়টি আদালতে সুরাহা হওয়ার আগেই প্রয়াত আবদুল আলীর বড় মেয়ে ফিরোজা আক্তার ডলি ও ছোট মেয়ে নাজমা আক্তার লিলি প্রতারণামূলকভাবে জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন। এ প্রক্রিয়ায় তারা স্থানীয় কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মৃধার কাছে ৪৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে।
ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম মৃধা ও জনৈক হায়দার আলী বায়না সূত্রে নিজেদের এই জমির মালিক দাবি করে এবং তা দখলে নেয়ার চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আলীর ছোট ছেলে আ ত ম আনোয়ারুল ইসলাম রঞ্জু আদালতে বিষয়টি অবহিত করলে বিচারক স্থানীয়ভাবে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল মৃধা তার লোকজন নিয়ে সোমবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমির দখল নিয়ে বেড়া দিয়ে মালিকানা সম্পর্কিত সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন।
এ ঘটনায় রাতে আবদুল আলীর ছেলে ফরিদপুর মডেল থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় পুলিশ নজরুল ইসলাম মৃধাকে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, শহীদ আবদুল আলীর ৫ সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে ডা. আ ত ম ইউসুফ হারুন ডেভিড যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসজীবনে ২০১৯ সালে মারা যান। ছোট ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম রঞ্জু ফরিদপুরে পৈতৃক ভিটায় বাস করেন। এছাড়া বড় মেয়ে ডলি ঢাকা, মেজ মেয়ে সেলিনা আক্তার রাণী যুক্তরাষ্ট্রে এবং ছোট মেয়ে নাজমা আক্তার লিলি খুলনায় থাকেন।
আর্ট নিউজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ফরিদপুরে পৈতৃক জমি প্রতারণামূলকভাবে বিক্রির চেষ্টার আগে ডলি ও লিলি দিনাজপুরে আরেকটি জমি অন্য তিন ভাই-বোনের অজ্ঞাতে বিক্রি করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন।
স্মর্তব্য, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসেই রাঙামাটির মহকুমা প্রশাসক এম আবদুল আলী মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এপ্রিল মাসে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অপারেশন চালাতে গিয়ে আটক হন। টানা এগার দিন তার ওপর নৃশংস অত্যাচারের পর জীবিতাবস্থায় বস্তাবন্দি করে কাপ্তাই লেকে ডুবিয়ে দেয়া হয়।
২০১৬ সালে এম আবদুল আলীকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়।

গ্রেফতার/আরএম/রমু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *