ডিসেম্বরেই করোনা টিকা

২৩ নভেম্বর ২০২০ (আন্তর্জাতিক ডেস্ক): বয়স ও ঝুঁকি বিবেচনায় ধাপে ধাপে করোনা ভাইরাসের টিকা পাবেন মার্কিন নাগরিকরা। ১১ ডিসেম্বর থেকে টিকা দেয়ার কাজ শুরু হতে পারে।

দেশটির করোনা ভাইরাস কার্যক্রমের প্রধান ডক্টর মনসেফ স্লাওইয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) কাছে ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকার অনুমোদনের আবেদন করার দুই দিন পরই এই মন্তব্য করেন দেশটির কোভিড কার্যক্রমের প্রধান। ফাইজার ও বায়োএনটেক দাবি করেছে, তাদের টিকার চূড়ান্ত ধাপের ট্রায়ালে ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছে। তার জরুরিভিত্তিতে এই টিকার ব্যবহারের অনুমোদন চেয়েছে।

সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মনসেফ বলেন, নতুন ভ্যাকসিন অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে এফডিএ’র বৈঠক ডাকা হয়েছে। ৮ থেকে ১০ ডিসেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ফাইজার ছাড়াও মডার্না ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তাদের করোনা ভ্যাকসিন চূড়ান্ত ট্রায়ালে ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ সফল হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

মনসেফ বলেন, ভ্যাকসিন অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এগুলো ব্যবহারের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে এগুলো পৌঁছে যাবে। সুতরাং আশা করছি, ১১ ডিসেম্বর কিংবা ১২ ডিসেম্বর করোনার ভ্যাকসিন আমরা ব্যবহার করতে পারবো।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন তথ্য দিলেন ডক্টর মনসেফ স্লাওই।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এক কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন দুই লাখ ৫৫ হাজার মানুষ।

বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ভ্যাকসিনগুলো সরবরাহ করা হবে। মনসেফ স্লাওই বলেন, কাদের আগে ভ্যাকসিন দেয়া হবে, সে বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেরা সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন এমন ব্যক্তিদের যেমন, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী ও বয়স্কদের আগে ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।

করোনার সম্ভাব্য ভ্যাকসিনগুলো যে পর্যায়ে কার্যকারিতা দেখিয়েছে, তাতে ৭০ শতাংশ মার্কিনিকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা গেলে আগামী বছরের মে মাস নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে ‘সত্যিকারের হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন ডক্টর স্লাওই।

যুক্তরাষ্ট্র/এসকেএম/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *