শেষ মুহূর্তের হিসাব নিকাষ

০১ নভেম্বর ২০২০ (আশফাক আহমেদ, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক): যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার শেষ সময় চলছে। করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ইতোমধ্যে দেশটির ৫০টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে চলছে আগাম ভোট নেয়া। ইউনাইটেড স্টেটস ইলেকশনস প্রজেক্টের তথ্য মতে, ইতোমধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন। এরমধ্যে সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন দুই কোটি আট লাখের বেশি। বাকিরা দিয়েছেন ডাক যোগে। বেশ কয়েকটি স্টেটে দেশটির এ যাবতকালের রেকর্ড অগ্রিম ভোট পড়েছে।

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় অন্য যে কোন নির্বাচনের তুলনায় এবার বেশি সময় নিয়ে ভোট দিতে পারছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক জরিপ বলছে, ৩ নভেম্বরের আগে আগাম ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড ১৫ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিবিএস নিউজের আরেক জরিপ মতে, এখন পর্যন্ত দেয়া আগাম ভোটে রিপাবলিকান পার্টিকে পেছনে ফেলে ১৫ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। তাদের হিসেবে নির্বাচনের দিন রিপাবলিকানদের অনেক ভোট প্রয়োজন।

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন। বেশি সময় দিচ্ছেন মিশিগান, উইসকনসিন, পেনসেলভেনিয়ার মতো সুইং এবং ব্যাটেলগ্রাউন্ড স্টেটগুলোতে। সুইং স্টেট বলা হয়, কারণ বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে এসব জায়গার ফলাফল বিভিন্ন সময় ঘুরে যায়। কখনও রিপাবলিকান আবার কখনো ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দেন এসব স্টেটের বাসিন্দারা। অনেক ক্ষেত্রে এসব স্টেটের ফলাফল হয়ে উঠে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নীতি নির্ধারক। ব্যাটেলগ্রাউন্ড স্টেটগুলো হলো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাব্য অঞ্চলগুলো।

দেশটির এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধান তৈরি করে দিতে পারে নতুন ভোটাররা। কেননা এবারের নির্বাচনে প্রতি দশজনের একজন ভোটারের বয়স ১৮ থেকে ২৩ বছর। ট্রাম্প নাকি বাইডেন, কাকে ভোট দিবে আমেরিকার জনগণ? সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এবারের নির্বাচনে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বর্ণবাদের মতো বিষয়গুলো মূলত ভোটারদের ভাবনায় কাজ করছে।

মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনার পর দেশটিতে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন অভিবাসী ভোটারদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার দেশটির ৩ কোটি ২ লাখ ল্যাটিনো নাগরিক ভোট দিতে পারবেন। ভোট দেয়ার উপযুক্ত কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি এবং এশিয়ান ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ১০ লাখের বেশি।

যদিও ভোটারদের সরাসরি ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন জানান। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প অথবা জো বাইডেনকে ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে কমপক্ষে ২৭০টি ভোট পেতে হবে। ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে রয়েছে হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের ৪৩৫ জন প্রতিনিধির ভোট। হাউস অব রেপ্রেজেনটেটিভস সদস্যরা পপুলার ভোট বা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

দেশটির সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি স্টেট থেকে কমপক্ষে একজন হাউস অব রেপ্রেজেনটেটিভস সদস্য থাকতে হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঙ্গে ৪৩৫টি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের আসন ছাড়াও হাউসের ৬ জন নন-ভোটিং সদস্য নির্বাচিত হবেন। তারা ১১৭তম কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বর্তমানে ১১৬তম মার্কিন কংগ্রেস চলছে।

স্টেটের আয়তন ও জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সেখানকার হাউস সদস্য নির্ধারিত হয়ে থাকে। ভোট দিবেন ৫০টি স্টেটের ২ জন করে সিনেট সদস্য, মোট ১০০ জন। এছাড়া ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় রয়েছে অতিরিক্ত ৩টি ভোট। সবচেয়ে বেশি ৫৫টি ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটে। সব শেষ ২০১৯ সালে ৩টি আসনে নির্বাচনের পর ৪৩৫টির মধ্যে ২৩৫টি আসন নিয়ে হাউসে মেজোরিটিতে আছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। রিপাবলিকানদের হাতে আছে ১৯৯টি আসন।

এদিকে, ২০১৮ সালে সবশেষ সিনেট নির্বাচনের পর ১০০ আসনের মধ্যে ৫৩টি আসন নিয়ে বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রিপাবলিকানদের। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি ৩৪ স্টেটে সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে এবার। সিনেটের ২৩টি আসনে লড়ছেন রিপাবলিকানরা, ১২টি আসনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং সিনেট প্রার্থীদের পাশাপাশি, দেশটির ১১টি স্টেটে গভর্নর নির্বাচন হচ্ছে। স্টেটগুলো হলো ডেলাওয়্যার, ইন্ডিয়ানা, মিসৌরি, মন্টানা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলিনা, নর্থ ডাকোটা, ইউটাহ, ভারমন্ট, ওয়াশিংটন ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডাক যোগে ভোট দেয়ার বিপক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরু থেকেই ডাক ভোটে জালিয়াতির সুযোগ থাকার অভিযোগ করে আসছেন তিনি। এজন্য ফ্লোরিডায় সশরীরে কেন্দ্রে গিয়ে আগাম ভোট দেন রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প। এদিকে, স্ত্রী জিল বাইডেনকে সাথে নিয়ে উইলমিংটনে আগাম ভোট দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্র/এএপি/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *